কোষপ্রাচীর, প্রোটোপ্লাজম, এবং কোষঝিল্পি কি ও কাকে বলে । জীবকোষ ও টিস্যু

2.2 উদ্ভিদ ও প্রাণিকোষের প্রধান অঙ্গাণু এবং তাদের কাজ


উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদ ও প্রাণীরা সকলেই প্রকৃত কোষী। প্রতিটি কোষ কতগুলাে অঙ্গাণু নিয়ে তৈরি হয়।

উদ্ভিদকোষের প্রধান অঙ্গাণু

প্রাণিকোষের প্রধান অঙ্গাণু


এসব অঙ্গানুর অধিকাংশই উদ্ভিদ ও প্রাণী উভয়ের কোষে থাকলেও কিছু অণু আছে, যা কেবল উদ্ভিদকোষে অথবা কেবল প্রাণিকোষে পাওয়া যায়। ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রে দেখা যায়, এমন কিছু কোষ অপাণুর সাথে এবার আমরা পরিচিত হব।


Table of content


কোষপ্রাচীর (cell wall)


কোষপ্রাচীর উদ্ভিদ কোষের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। এটি মৃত বা জড়বস্তু দিয়ে তৈরি। প্রাণিকোষে কোষপ্রাচীর থাকে না। কোষপ্রাচীরের রাসায়নিক গঠন বেশ জটিল, এতে সেলুলােজ, হেমিসেলুলােল, লিগনিন, পেকটিন, সুবেরিন নামক রাসায়নিক পদার্থ থাকে। তবে ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীর প্রোটিন, লিপিড ও পলিস্যাকারাইড দিয়ে এবং ছত্রাকের কোষপ্রাচীর কাইটিন দিয়ে তৈরি। প্রাথমিক কোষপ্রাচীরটি একস্তরবিশিষ্ট। মধ্য পর্দার উপর প্রােটোপ্লাজম থেকে নিঃসৃত কয়েক ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য জমা হয়ে ক্রমশ গৌণপ্রাচীর সৃষ্টি হয়। এ প্রাচীরে মাঝে মাঝে ছিদ্র থাকে, যাকে কুপ বলে। কোষপ্রাচীর কোষকে দৃঢ়তা প্রদান করে, কোষের আকার ও আকৃতি বজায় রাখে। পাশের কোষের সাথে প্লাজমােডেজমাটা (আণুবীক্ষণিক নালি) সৃষ্টির মাধ্যমে ঘােযােণ রক্ষা করে এবং পানি ও খনিজ লবণ চলাচল নিয়ন্সণ করে।


কোষ প্রাচীরের আণুবীক্ষণিক চিত্র



প্রোটোপ্লাজম (Protoplasm)


কোষের ভিতরে যে অর্ধচ্ছ, থকথকে জেলির মতাে কতু থাকে তাকে প্রোটোপ্লাজম বলে। কোষঝিল্লি দিয়ে ঘেরা সবকিছুই প্রােটোপ্লাজম, এমনকি কোষঝিল্লি নিজেও গ্রোটোপ্লাজমের অংশ। কোষঝিল্লী ছাড়াও এখানে আছে সাইটোপ্লাজমীয় অণুগুলাে এবং নিউক্লিয়াস।


2.21 কোষঝিল্পি (Plasmalemma)


প্রােটোপ্লাজমের বাইরে দুই স্তরের যে স্থিতিস্থাপক পর্দা থাকে, তাকে কোষঝিল্লি বা প্লাজমালেমা বা প্লামা মেমক্রে বলে। কোষঝিল্লির ভাঁজকে মাইক্রাভিলাই বলে। এটি প্রধানত লিপিড এবং প্রােটিল দিয়ে তৈরি। কোষঝিল্লি একটি বৈষম্যভেদ্য পর্দা হওয়ায় অভিস্রবণের মাধ্যমে পানি ও খনিজ লবণ। চলাচল নিয়ম্মণ করে এবং পাশাপাশি কোষগুলােকে পরস্পর থেকে আলাদা করে রাখে।


কোষঝিল্পি



নবীনতর পূর্বতন

যোগাযোগ ফর্ম